বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার লক্ষ্যে গড়ে তোলা সাত দেশের জোট বিমসটেকের সদর দফতর পরিচালনার জন্য বাংলাদেশের রাজধানীতে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।
ঢাকার গুলশানে এই ভবনটি নির্মাণে ১২২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন ধরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রকল্পের প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে ২০২৮ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এর কাজ শেষ করবে গণপূর্ত অধিদফতর।
একটি ১০ তলা ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বিমসটেকের কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনার পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সাত দেশের মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সংহতি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি প্রণয়ন করা হয়েছে বলে প্রস্তাবে দাবি করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের পক্ষ থেকে এর আগেই প্রস্তাবটির ওপর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বেশ কিছু সুপারিশ পরিপালনের শর্তে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য একনেকে প্রস্তাব করার সিদ্ধান্ত হয়।
সব কিছু ঠিক থাকলে একনেকের আগামী সভায় এই প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হতে পারে বলে পরিকল্পনা কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে।
১৯৯৭ সালে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের এক সভায় একটি আন্তঃআঞ্চলিক জোট গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এতে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর নামের প্রথম অক্ষর ব্যবহার করে জোটের নাম রাখা হয় বিমসটেক—বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া, শ্রীলঙ্কা এবং থাইল্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন।
পরে ২০০৪ সালে মিয়ানমার, নেপাল ও ভুটানকে অন্তর্ভুক্ত করে এর নামকরণ করা হয় বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন (বিমসটেক)।
এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ব্যবসা, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, পর্যটন, মানবসম্পদ, কৃষি, যোগাযোগ, তৈরি পোশাকসহ ১৪টি খাতে পারস্পরিক প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গড়ে ওঠা এই সংস্থাটির সদর দফতর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়।
বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত সংস্থার সম্মেলনে একটি স্থায়ী সচিবালয় গঠনের দাবি ওঠায় রাজধানীর গুলশানের একটি সরকারি ভবন সংস্থাটির জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। দুইতলা পুরাতন ভবনটি বিভিন্ন সংস্কার কাজ শেষে ২০১৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিদ্যমান ভবনটি সংস্থার ৩০ জন কর্মীর জন্যও যথেষ্ট নয়। ইতোমধ্যে সংস্থাটির কর্মী সংখ্যা ৫০-এ উন্নীত করা হয়েছে।
পুরাতন ভবনটির ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের সুযোগ না থাকায় তা অপসারণ করে নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় ১৫ তলা ভিত্তির ওপর দুইতলা বেজমেন্টসহ একটি ১০ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে।
এই ভবনটির নির্মাণ, ইন্টেরিয়র, পয়নিষ্কাশন, অভ্যন্তরীণ বিদ্যুতায়ন ও গ্যাস সংযোগ স্থাপনে মোট ৫২ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয় হবে, যা মোট ব্যয়ের ৪২.৮০ শতাংশ।