চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনায় বিভিন্ন মন্ত্রনালয় ও বাস্তবায়নকারী সংস্থার আয়োজনে প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটি (পিএসসি) ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) সভায় বিদেশি দাতা সংস্থার প্রতিনিধিদের না ডাকার অনিুরোধ জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।
অন্তর্বতী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের নির্দেশনায় গত সপ্তাহে ইআরডির ইউরোপ উইং থেকে জারি করা চিঠিতে এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
ইআরডির ডেপুটি সচিব মোঃ মাসুদ আলমের স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, দাতা সংস্থাদের এ ধরনের অভ্যন্তরীণ সভায় অংশগ্রহণ সরকারী নীতিমালা লঙ্ঘন এবং সরকারের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার ক্ষুণ্ন করে।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিকল্পনা বিভাগের ‘ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট ফরমুলেশন, প্রসেসিং, অনুমোদন ও সংশোধন গাইডলাইনস’ এর নীতিমালায় পিএসসি ও পিআইসি সভাগুলোয় বাইরের কোন সংস্থার প্রতিনিধির অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ।
তবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে দাতা সংস্থার প্রতিনিধিরা নিয়মিত এই সভায় অংশগ্রহণ করে আসছিলেন বলে এ সব সভার নোটিশ ও কার্য্যবিবরনী পর্যালোচনায় উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে ইআরডি।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, দাতা সংস্থাদের উপস্থিতি প্রকল্পের দুর্বলতা নিয়ে মুক্ত আলোচনা ব্যাহত করে এবং সরকারের প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
ইআরডির সাবেক এক সচিব জানান, প্রকল্প অগ্রগতি ও সমস্যা নিয়ে উন্নয়ন সহযোগী ও বাস্তবায়নকারী সংস্থার মধ্যে নিয়মিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজন করা হয়, তাই পিএসসি ও পিআইসি সভায় দাতাদের সরাসরি অংশগ্রহণ অপ্রয়োজনীয়।
ইআরডির একাধীক কর্মকর্তা বলেন, দেশের স্বার্থ সম্মুন্নত রাখতে নীতিগত স্বায়ত্তশাসন সুরক্ষা করতে হয়। অভ্যন্তরীণ সভায় দাতা সংস্থার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ এই স্বায়ত্তশাসন হুমকির মুখে ফেলে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের সাবেক মহাপরিচালক ড. মুস্তফা কে মুজেরি বলেন, “দাতারা প্রকল্প অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও অভ্যন্তরীণ সরকারি সভায় তাদের অংশগ্রহণ সীমাবদ্ধ রাখা উচিত যাতে সরকার চাপমুক্ত পরিবেশে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।”
চিঠিতে আরো উল্লেখ আছে, অনেক কর্মকর্তা ২০২২ সাল থেকে কার্যকর থাকা পরিকল্পনা বিভাগের গাইডলাইন সম্পর্কে অবহিত নন। অথবা তারা ইচ্ছাকৃতভাবে সরকারি নীতি লঙ্ঘন করছেন।
ইআরডি চিঠিতে উল্লেখ করেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারী নেতৃত্ব জোরদারের জন্য এসব সভায় শুধুমাত্র সরকারী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।