৫৩৪ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়নে ২ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা ব্যয় করবে সরকার। এ হিসাবে প্রতিটি স্কুলের উন্নয়নে গড়ে ব্যয় হবে ৪ কোটি ৯০ লাখ টাকার বেশি।
এ লক্ষ্যে “বিদ্যমান মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১০টি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবকাঠামো উন্নয়ন” শীর্ষক এই প্রকল্প প্রস্তাব করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে ২০২৮ সালের মধ্যে এর কাজ শেষ করবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
৬৪ জেলার ৪৮৮টি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১০ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত ৪৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হচ্ছে।
প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো আওতাভুক্ত বিদ্যালয়ে অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংস্কারের মাধ্যমে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা। এর আওতায় শ্রেণিকক্ষ, লাইব্রেরি, মাল্টিপারপাস কক্ষ ও শিক্ষকদের জন্য কক্ষ নির্মাণের পাশাপাশি পুরনো অবকাঠামো সংস্কার করা হবে। এছাড়া আধুনিক শিক্ষণ উপকরণ, ডিজিটাল সরঞ্জাম ও খেলাধুলার সামগ্রী সরবরাহ করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা আনন্দদায়ক পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারে এবং শিক্ষকরা উন্নত সুযোগ-সুবিধা পান।
প্রকল্পের আওতায় মোট ৬ হাজার ২৯২টি শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ এবং ১ হাজার ৩০৮টি কক্ষ মেরামত করা হবে। এ ছাড়া ১৬০টি বিদ্যালয়ে পাইলিং কাজ এবং ২১৮টি বিদ্যালয়ে মাটি ভরাট ও ভূমি উন্নয়ন করা হবে।
বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়নে ১৭ হাজার ৯৭৭ মিটার সীমানা প্রাচীর নির্মাণ এবং ১১ হাজার ২০৭ মিটার প্রাচীর সংস্কার করা হবে। পাশাপাশি ১৩৯টি বিদ্যালয়ে নতুন গেট এবং ১৩২টি গেট মেরামত, ৩০৯টি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ ও ৪৯টি শহীদ মিনার সংস্কার করা হবে। ৪২৫টি বিদ্যালয়ে অভিভাবক শেড তৈরি এবং ২৯টি শেড সংস্কারের কাজও থাকবে।
শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষার সুযোগ দিতে ৪ হাজার ৭৮৯টি শ্রেণিকক্ষের জন্য আসবাবপত্র, ৫৩৪টি বিদ্যালয়ের জন্য খেলাধুলার সরঞ্জাম, সংগীত বিষয়ক যন্ত্র, ইন্টারঅ্যাকটিভ ফ্ল্যাট প্যানেল ও ফটোকপিয়ার মেশিন সরবরাহ করা হবে। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য সাজসজ্জা, চিত্রাঙ্কন সামগ্রী ও ইনডোর গেমের উপকরণও সরবরাহ করা হবে।
প্রকল্পের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সংবিধান অনুযায়ী দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পরিচ্ছন্ন, দৃষ্টিনন্দন ও প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়ায় এবং নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। পাশাপাশি শিক্ষকদের জন্য উন্নত কর্মপরিবেশ গড়ে তুললে শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক মানোন্নয়ন ঘটে।
সরকার মনে করছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষণ-শিখন পরিবেশ উন্নত হবে, কমিউনিটির সম্পৃক্ততা বাড়বে এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কর্মক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা যুক্ত বিদ্যালয়গুলো দেশের প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে সারাদেশে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়নে বড় ধরনের অগ্রগতি ঘটবে বলে আশা করছে সরকার।