মঙ্গলবার, মার্চ ১০, ২০২৬

যমুনা সেতুর রেল ট্র্যাক অপসারণ করে সড়ক লেন প্রশস্ত করার উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

যমুনায় পৃথক রেলওয়ে সেতু চালু হওয়ার পর যমুনা বহুমুখী সেতু থেকে অব্যবহৃত রেল ট্র্যাক সরিয়ে সড়ক লেন প্রশস্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ)।

সেতুর ২৫ বছরের বেশি সময় বয়সী অবকাঠামোর বহনক্ষমতা বাড়ানো ও যানজট নিরসনে এ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সম্প্রতি একটি প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গাজীপুরের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি) ও নেদারল্যান্ডসভিত্তিক কোম্পানি ডেভকনের যৌথ উদ্যোগকে (জয়েন্ট ভেঞ্চার) পরামর্শক হিসেবে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি রেল ট্র্যাক অপসারণের টেকনিক্যাল সম্ভাব্যতা যাচাই, সেতুর কাঠামোগত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সড়ক লেন সম্প্রসারণ ও ডেক মেরামতের নকশা প্রণয়নসহ ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) তৈরি করবে।

বাড়তি চাপের মুখে সেতু

১৯৯৮ সালে চালুর সময় প্রতিদিন গড়ে আট হাজার যানবাহন যমুনা সেতু পারাপার হতো। বর্তমানে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজারেরও বেশি। মূল নকশায় রেল ও সড়ক একইসঙ্গে চলাচলের ব্যবস্থা রাখা হলেও নতুন রেল সেতু চালুর পর পুরোনো ট্র্যাক অব্যবহৃত হয়ে পড়েছে।

বিবিএর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “সেতুর বহনক্ষমতা বর্তমান চাহিদার তুলনায় অনেক কমে গেছে। যানজট নিরসন ও নিরাপদ যাতায়াতের জন্য লেন প্রশস্ত করা এখন অপরিহার্য।”

অর্থায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ

সেতু থেকে বিপুল টোল আদায় হলেও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও প্রতি বছর বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে সেতুর ডেক স্ল্যাব ও জয়েন্টে ফাটল মেরামতের কাজ নিয়মিত করতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, শুধু লেন সম্প্রসারণ নয়, পুরো সেতুর দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা জরুরি।

“সেতুটি ইতিমধ্যেই বয়সের ভারে ক্ষয়ের লক্ষণ দেখাচ্ছে। লেন প্রশস্ত করলে চাপ আরও বাড়বে। তাই টেকসই রক্ষণাবেক্ষণ কৌশল ছাড়া এ প্রকল্পের সুফল সীমিত হতে পারে,” বলেন পরিবহণ বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুল হক।

অর্থায়নের বিষয়ে জানা গেছে, প্রাথমিক পরামর্শক কার্যক্রমের খরচ সেতু কর্তৃপক্ষের নিজস্ব তহবিল থেকে আসবে। তবে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংস্কার ও সম্প্রসারণে সরকারের অর্থায়নের প্রয়োজন হতে পারে।

পরামর্শক বাছাই প্রক্রিয়া

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়  (বুয়েট),রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট),মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি) ও আইইউটি-সহ সাতটি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছিল। এর মধ্যে রুয়েট, মিস্ট ও আইইউটি কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব দেয়। সর্বোচ্চ স্কোর পাওয়া আইইউটি-ডেভকন জয়েন্ট ভেঞ্চারের সঙ্গে আলোচনাও শেষ হয়েছে।

সম্পর্কিত