পদ্মা সেতুর ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) সিস্টেমে গাড়ি নিবন্ধন আজ সোমবার শুরু হয়েছে। এই নিবন্ধনের ভিত্তিতে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পরীক্ষামূলকভাবে সেতুটিতে ইলেকট্রনিক সিস্টেমে টোল পরিশোধ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বাসেক) নির্বাহী পরিচালক ও সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ।
তিনি বলেন, সাতটি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) বা ৩৬টি ব্যাংকের অ্যাপ থেকে হিসাবধারীরা তাদের যানবাহন নিবন্ধন করে অগ্রিম টাকা পরিশোধ করতে পারবেন। টোলপ্লাজায় স্থাপন করা ক্যামেরা এসব গাড়ির নাম্বারপ্লেট সনাক্ত করার মাধ্যমে টোলের পরিমাণ কেটে নিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গেট খুলে দেবে।
পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে কোনো সময় লাগবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে টোল প্লাজায় গাড়ির চাপ ও সংযোগ সড়কে যানজট কমে আসবে।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি সেতু কর্তৃপক্ষের বোর্ড সভায় পুরো প্রক্রিয়াটি উপস্থাপন করা হয়। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রক্রিয়াটির অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত এ প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে সভা থেকে।
সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের এটুআই প্রকল্পের আওতায় গড়ে ওঠা একপে (Ekpay)-এর সঙ্গে গত জুলাইয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর আওতায় সেতু ব্যবহারকারীরা বিকাশ, রকেট, উপায় ও নগদসহ মোট ৭টি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং ৩৬টি ব্যাংক ব্যবহার করে টোল পরিশোধ করতে পারবেন।
এর আগে গত এপ্রিলে পূবালী ব্যাংক পিএলসি, যমুনা ব্যাংক পিএলসি, ডাচ-বাংলা ব্যাংক পিএলসি এবং নগদসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ।
সেতু বিভাগের সচিব ও সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, “এটি শুধু পদ্মা সেতু নয়, বরং যমুনা সেতু, মুক্তারপুর সেতু ও কর্ণফুলী টানেলেও ধাপে ধাপে চালু করা হবে। এতে প্রযুক্তিনির্ভর টোল আদায়ে নতুন যুগের সূচনা হবে।”