মঙ্গলবার, মার্চ ১০, ২০২৬

সচিবালয়ে ২৫ তলা ভবনের পরিকল্পনা, উঠছে যৌক্তিকতা প্রশ্ন

বিশেষ প্রতিনিধি

সচিবালয়ের নতুন মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলমান অবস্থার মধ্যেই বিদ্যমান কম্পাউন্ডের মধ্যে একটি ২৫ তলা ভবন নির্মাণ করতে চায় সরকার।
রাজধানীর শেরেবাংলানগরে সচিবালয় স্থানান্তরের গুঞ্জনের মধ্যেই ৭২৯.১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ভবন নির্মাণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এ বিষয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পাঠানো একটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করতে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা আয়োজন করতে যাচ্ছে পরিকল্পনা কমিশন।

কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) এম এ আকমল হোসেন আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য সভায় পুরো প্রকল্পটির যৌক্তিকতা ও বেশ কয়েকটি খাতে প্রস্তাবিত ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

পিইসি সভার সুপারিশের আলোকে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে আগামী বছরের শুরু থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করবে গণপূর্ত অধিদফতর।

প্রকল্পের কাজ শেষ হলে চারটি বেজমেন্ট ছাড়াও ২৫টি ফ্লোরে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৬৩৬ বর্গফুট জায়গার ব্যবস্থা হবে।
চার বেজমেন্টে গাড়ি পার্কিং, সুপরিসর লিফট, অগ্নি নির্বাপন, কার পার্কিং ব্যবস্থাপনা ও পাবলিক অ্যাড্রেস ব্যবস্থাপনা স্থাপন করা হবে।

ভবনটি নির্মাণকালীন সময়ে স্থানটিতে বিদ্যমান ভবন ও শেডের অফিসগুলো অর্থ মন্ত্রণালয়ের নতুন ভবনে স্থানান্তর করা হবে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, সরকারের প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা, সচিবালয়ে অধিক সংখ্যক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের স্থান সঙ্কুলান করা এবং জমির সুষ্ঠু ব্যবহার ও সরকারি অর্থের যথাযথ উপযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রকল্পটি প্রণয়ন করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, সচিবালয়ের বিদ্যমান স্থাপনা ক্রমবর্ধমান ব্যবহারকারীর চাহিদা পূরণে সক্ষম হচ্ছে না।
বর্তমানে সচিবালয়ে প্রায় ১০ লাখ বর্গফুট অফিস স্পেস থাকলেও মোট স্পেসের চাহিদা ৬ লাখ ৮০ হাজার বর্গফুট।
প্রস্তাবিত ভবনটি নির্মাণ হলে বর্তমান চাহিদার মাত্র ৪২.৩০ শতাংশ পূরণ হবে।

প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়েছে, সচিবালয়ের একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে। তা ছাড়া শেরেবাংলানগরে নতুন সচিবালয় স্থাপনের বিষয়টিও সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
সচিবালয় শেরেবাংলানগরে চলে গেলে প্রস্তাবিত নতুন ভবন সরকারের সিদ্ধান্তে যে কোনো দফতরকে দেওয়া হতে পারে বলেও প্রস্তাবনায় উঠে এসেছে।

তবে পিইসি সভায় পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রকল্পের বিষয়ে সাধারণ মানুষ ও অংশীজনের মতামত নেওয়ার সুপারিশ করার পাশাপাশি বেশ কিছু খাতে বরাদ্দের বিষয়ে জানতে চাইবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

“প্রস্তাবিত প্রকল্পে ৪টি বেজমেন্টসহ ৭১,৯৪৩ বর্গমিটারের ২৫ তলা ভবন নির্মাণের ব্যয় ৩৯৮.৬১৮২ কোটি টাকা ধরা হয়েছে,” মন্তব্য করে এক কর্মকর্তা বলেন, অফিস স্পেস গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রাধিকার নীতিমালা অনুযায়ী করা হয়েছে কিনা তা জানতে চাওয়া হবে।

পিইসি সভার জন্য তৈরি করা একটি কার্যপত্রে বলা হয়েছে, সচিবালয়ে ইতোমধ্যে সর্বোচ্চ ২০ তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এই ভবনের সঙ্গে সাদৃশ্য রেখে আলোচ্য প্রকল্পটির আওতায় ২০ তলা ভবন নির্মাণ করার সুপারিশ করা হবে।

১৬০০ কেজি ২৯ স্টপের প্যাসেঞ্জার লিফট ৮টি, ১২৫০ কেজি ২৯ স্টপের বেড লিফট ২টি, ১২৫০ কেজি ২৫ স্টপের ফায়ার লিফট ৪টিসহ মোট ১৪টি লিফট কেনার প্রস্তাব রয়েছে প্রকল্পে।
এতে ৩৪.২০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে, যেখানে প্রতিটি লিফটের গড় ব্যয় ২.৪৪ কোটি টাকার বেশি। ১৪টি লিফটের প্রয়োজনীয়তা এবং এর প্রস্তাবিত ব্যয় নিয়েও আলোচনা হবে সভায়।