৭৫০ ইউনিয়নে ক্ষুদ্র অবকাঠামো উন্নয়নে ৬৫১ কোটি টাকা ব্যয়ের উদ্যোগ
প্রকাশ : শনিবার, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের ৩০০ উপজেলার ৭৫০ ইউনিয়নে ক্ষুদ্র অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। ছোট সড়ক, কালভার্ট, ঘাটলার মতো ৩০ হাজারের বেশি অবকাঠামো নির্মাণে মোট ৬৫০.৯৩ কোটি টাকা ব্যয় হবে।
গ্রামীণ জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে অংশীদারিত্বমূলক পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচির চতুর্থ পর্যায় শীর্ষক প্রকল্প (পিআরডিপি–৪) সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ।
চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে প্রকল্পটি আগামী পাঁচ বছরে অর্থাৎ ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)।
মোট প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হবে ৫৯৫.৯৩ কোটি টাকা। এর পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদ ও সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠীকে বহন করতে হবে ৫৫ কোটি টাকা।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে, এই প্রস্তাবের ওপর শিগগিরই প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা করতে যাচ্ছে কমিশন।
সভায় প্রস্তাবিত খরচে যৌক্তিককরণের সুপারিশ করা হবে। তা ছাড়া প্রশিক্ষণ, ভ্রমণ ও আউটসোর্সিং খাতে ব্যয় কমাতে বলা হবে। ইউনিয়ন পরিষদ ও সুফলভোগীর অবদান সরকারি ব্যয়ের বাইরে আলাদা করে দেখানোরও নির্দেশনা দেওয়া হবে সভায়।
প্রকল্পের আওতায় গঠিত হবে ৬,৭৫০টি গ্রাম উন্নয়ন কমিটি (ভিডিসি) ও ইউনিয়ন সমন্বয় কমিটি। এসব কমিটি স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করবে এবং ক্ষুদ্র অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। একেকটি ভিডিসি স্কিমের সর্বোচ্চ ব্যয় ১.৫ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।
পাঁচ বছরে প্রায় ৩ লাখ ২৪ হাজার সভা আয়োজন, ৩০ হাজার ক্ষুদ্র উন্নয়ন স্কিম বাস্তবায়ন এবং সাত লাখ মানুষকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৩৯.৬ লাখ মানুষ এই প্রকল্পের সুফল পাবেন। আর পরোক্ষভাবে উপকৃত হবেন আরও ১ কোটি ৫৫ লাখের বেশি গ্রামীণ মানুষ।
দেশের ৩০০ উপজেলার ৭৫০ ইউনিয়নে ক্ষুদ্র অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ
বিআরডিবি জানায়, জাপানের সহায়তায় ১৯৯০-এর দশকে শুরু হওয়া এ মডেল ইতিমধ্যে তিন ধাপে বাস্তবায়ন হয়েছে। পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এই পদ্ধতি দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। নতুন ধাপের প্রকল্প সেই ধারাবাহিকতাকেই এগিয়ে নেবে।
এদিকে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের বাজেটে বড় অবকাঠামো বিনিয়োগ সীমিত রাখা হলেও সামাজিক সুরক্ষা ও গ্রামীণ উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার সংকট ও মূল্যস্ফীতি মোকাবিলার বাস্তবতায় তুলনামূলক কম ব্যয়ের, দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্পে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা মনে করেন, পিআরডিপি–৪ এ পরিস্থিতির সঙ্গে মানানসই একটি উদ্যোগ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে দারিদ্র্যের হার প্রায় ১৮.৭ শতাংশ এবং চরম দারিদ্র্যের হার ৫.৬ শতাংশ। তবে মুদ্রাস্ফীতি ও কর্মসংস্থানের সংকটের কারণে এ হার ফের বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, গ্রামীণ মানুষ সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে রয়েছে, কারণ তারা আংশিক কর্মসংস্থান ও কৃষির উপর নির্ভরশীল, যেখানে মজুরি স্থবির এবং উৎপাদনশীলতা কম।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজেট ঘাটতি ও অর্থনৈতিক চাপে ক্ষুদ্র কিন্তু লক্ষ্যভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। তাদের মতে, পিআরডিপি–৪ দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আয় বৃদ্ধি এবং স্থানীয় সরকারের সক্ষমতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
পরিকল্পনা কমিশনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “প্রকল্পটি যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায় তবে এটি দারিদ্র্য হ্রাসে বড় ভূমিকা রাখবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।”