মঙ্গলবার, মার্চ ১০, ২০২৬

প্রকল্প জটিলতার সমাধানে বসছে শীর্ষ মহল

বিশেষ প্রতিনিধি

উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, কেনাকাটা, অর্থায়ন ও বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ এবং বৈদেশিক সহায়তার ছাড় ও সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনার ঝুঁকি নিয়ে অন্তর্বতীকালীন সরকারের প্রায় সব উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্ঠার বিশেষ সহকারী ও সব সচিব বৈঠকে সবছেন আজ।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ডাকে “বাংলাদেশে প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সমসাময়িক ইস্যুসমূহ: নীতিনির্ধারণী দৃষ্টিকোণ” শীর্ষক বৈঠকটি সঞ্চালনা করবেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এবং অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) আয়োজিনে এ বৈঠক থেকে প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতা চিহ্নিত করার পাশাপাশি টেকসই ঋণ ব্যবস্থাপনা জোরদার করা এবং প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সহজ করার সুপারিশ পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সভায় বৈদেশিক অর্থায়ন, ঋণ কৌশল, প্রকল্প প্রণয়ন ও অনুমোদন, সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা, সিসিজিপি’র ভূমিকা এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন সংক্রান্ত কেস স্টাডিসহ মোট সাতটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হবে।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ উপদেষ্টা ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী, ইআরডি, পরিকল্পনা বিভাগ, আইএমইডি সচিব এবং বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) সিইও বাংলাদেশের উন্নয়ন ব্যবস্থার বিভিন্ন অন্তরায় তুলে ধরবেন।

বৈঠকের কার্যপত্রে বলা হয়েছে, সঠিকভাবে পরিকল্পিত ও দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্প বাংলাদেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য অপরিহার্য। কিন্তু প্রকল্প অগ্রাধিকার নির্ধারণে দুর্বলতা, অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রিতা, ক্রয় প্রক্রিয়ায় বিলম্ব, ব্যয় বৃদ্ধি ও দুর্বল তদারকি কাঙ্ক্ষিত ফল ব্যাহত করছে। এ ছাড়া ঋণের বোঝা বেড়ে আর্থিক পরিসর সংকুচিত হওয়ায় ঋণ টেকসই ব্যবস্থাপনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দের মাত্র ৬৭.৮৫ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে, যা গত ১২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

প্রাথমিক বরাদ্দের তুলনায় এ হার আরও কম।

ওই অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার কোটি টাকা যা আগের অর্থবছরের ২ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা থেকে ২৫.২০ শতাংশ কম।

এর ফলে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় কিছুটা চাপ কমলেও দরিদ্র জনগোষ্ঠী উন্নয়ন সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে প্রায় ৫১ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকার সমপরিমাণ।

আইএমইডির প্রতিবেদনে  সম্ভাব্যতা যাচাই থেকে শুরু করে প্রণয়ন, অনুমোদন, বাস্তবায়ন ও বাস্তবায়ন-পরবর্তী তদারকি পর্যন্ত প্রকল্প চক্রের সব ধাপেই সমস্যা শনাক্ত করা হয়েছে।

এ সব সমস্যার এর সমাধানে বেশ বরারই বেশ কিছু সুপারিশও করা হলেও আজকের বৈঠকে এসব সমস্যা মাধানে কার্যকর দিকনির্দেশনা খোঁজা হবে।

অন্যদিকে, গত অর্থবছরে একনেকের মাত্র ১২টি বৈঠকে প্রায় ১০০ প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে, যেখানে কয়েক বছর আগে একনেকের কয়েক ডজন বৈঠকে ৩৫০টিরও বেশি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছিল।

অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, নতুন প্রকল্প অনুমোদনের এ ধীরগতি সামগ্রিক উন্নয়ন ব্যাহত করতে পারে, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য তহবিলপ্রবাহ কমিয়ে দিতে পারে এবং সরকারি ব্যয় হ্রাসের কারণে বেসরকারি বিনিয়োগও কমতে পারে।

চলমান প্রকল্পগুলোর স্থবিরতাও ভবিষ্যতে সংশোধনের চাপ বাড়াতে পারে।

তবে ইআরডি সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং পরিকল্পনা সচিব ইকবাল আব্দুল্লাহ হারুনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।