রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সিলেটের যাতায়াত ও পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নে ১৬ হাজার ৯১৯ কোটি টাকা ব্যয় ধরে নেয়া “সাসেক ঢাকা সিলেট করিডোর সড়ক উন্নয়ণ” শীর্ষক প্রকল্পে চার বছর আট মাসে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৩ হাজার ২৬১ কোটি টাকা।
আগামী বছরের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া প্রকল্পটিকে এ পর্যন্ত মোট প্রাক্বলিত ব্যয়ের ১৯.২৭ শতাংশ অর্থ ব্যয় করে এ পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে কাজ হয়েছে মাত্র ১৫ শতাংশ।
সম্প্রতি পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি)এক সভায় গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি নির্মাণের কাজের ধীরগতির এই হতাশাজক চিত্র উঠে আসে।
সভায় প্রকল্পটিকে ক্রিটিক্যাল হিসেবে চিহ্ণিত করে বাস্তবায়নে গতি আনতে নজরধারী ও তদারকি বাড়ানো, প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটি (পিএসসি) ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) সভার নিয়মিত আয়োজন এবং সভার সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে পরিপালনের সুপারিশ করা হয়।
আইএমইডি সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরকারের নিজস্ব তহবিলের ৩ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঋণ থেকে ১৩ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে গতি আনতে পারলে ঢাকা থেকে সিলেটে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, বর্তমাণের নির্মানাধীন সড়কে যাত্রীদের ভোগান্তি গ্রাসের পাশাপাশি বিদেশি সহায়তার সংশ্লেষ থাকায় বিদেশি মূদ্রার ওপর চাপ কিছুটা হলেও কমত বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
সভায় ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার ধীরগতিকে প্রকল্পটির ধীরগতির সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রকল্পটির পরিচালক বলেন, নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ না হলে সড়ক সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন কার্যক্রমে বিলম্ব হয়।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ, পানি ও যোগাযোগ সংক্রান্ত অবকাঠামো সরানোর কাজে বিলম্ব প্রকল্পের অগ্রগতিকে সীমিত করেছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন এলাকায় সফট গ্রাউন্ড ইন্সুভমেন্টের সমস্যা প্রযুক্তিগত জটিলতা সৃষ্টি করছে, যা নির্মাণের কাজকে আরও দেরিতে সম্পন্ন করছে, দাবি করেন পিডি।
সাইট স্পেসিফিক ও ডিজাইন এডজাস্টমেন্টের জন্য সময় মন্তব্য করে সভায় বলা হয়, বাস্তব প্রয়োজনে এবং ব্যবহারকারীর চাহিদা অনুযায়ী সড়কের নির্দিষ্ট অংশে ডিজাইনের পরিবর্তন অপরিহার্য।
পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা পরামর্শক কর্তৃক চিহ্নিত ঝুঁকিগুলো নিরসনের জন্য সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। মহাসড়ককে টোলযোগ্য করার জন্য ডিজাইন সংশোধন এবং টোল অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজনীয়তাও আইএমইডি সভায় আলোচনা হয়েছে।
প্রকল্পের ধীরগতিকে কাটিয়ে ওঠতে সভায় ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া দ্রুত সমাপ্ত করার সুপারিশ করা হয়।
তা ছাড়া প্যাকেজ ভিত্তিক টেন্ডার গ্রহণ এবং অনুমোদন সম্পর্কিত প্রতিবেদন নিয়মিতভাবে কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর সুপরিশও করে সভা।
ডিপিপি অনুযায়ী পিআইসি/পিএসসি সভা আয়োজন এবং সভার সুপারিশ অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
আইএমইডি জানিয়েছে, এই সুপারিশগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা কঠিন হবে।