মঙ্গলবার, মার্চ ১০, ২০২৬

হাজার বছরেও শেষ হবে না ৩২৯ টিএসসি নির্মাণ!

নির্মিতব্য টিটিসির ডিজাইন

দেশের ৩২৯টি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপনের প্রকল্পে পাঁচ বছর সাত মাসে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১০৫.৯৭ কোটি টাকা। প্রাথমিক মেয়াদ শেষ হলেও ২০,৫২৫.৬৯ কোটি টাকার এ মেগা প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ০.৫৩ শতাংশ, আর টাকার অঙ্কে অগ্রগতি তিন শতাংশেরও কম। এ গতিতে অর্থ ব্যয় হলে পুরো বরাদ্দ খরচ হতে লাগবে এক সহস্রাধিক বছর।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) এক সভার কার্যবিবরণী থেকে এ তথ্য জানা গেছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, প্রকল্প শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আটজন কর্মকর্তা পর্যায়ক্রমে প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করলেও ধারাবাহিক উদ্যোগের অভাবে অগ্রগতি হয়নি।

প্রকল্পটির লক্ষ্য ছিল ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণিতে একটি করে কারিগরি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে এসএসসি ও এইচএসসি ভোকেশনাল কোর্স চালুর মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় সাড়ে চার লাখ শিক্ষার্থীকে কারিগরি শিক্ষার আওতায় আনা। এতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

কিন্তু অনুমোদনের ছয় মাস পর সরকারি আদেশ (জিও) জারি এবং প্রথম পিডি নিয়োগে আরও নয় মাস সময় নেওয়ায় প্রকল্পটি শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে কোভিড মহামারির ধাক্কায় কার্যক্রম প্রায় থমকে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অগ্রগতি হলেও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা, পরিবেশ ছাড়পত্রে বিলম্ব ও জনবল ঘাটতির কারণে প্রকল্প এখনও গতি পায়নি।

কারিগড়ি শিক্ষা অধিদফতর

আইএমইডি জানায়, ডিপিপিতে জমির মূল্য মৌজা রেটের চেয়ে কম থাকায় জমি পাওয়া যাচ্ছে না। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ধীরগতির কারণে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে। ফলে নির্মাণ কার্যক্রমও বিলম্বিত হচ্ছে।

প্রকল্পের মেয়াদ প্রথমে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকলেও ব্যয় না বাড়িয়ে এক দফায় চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এখন মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়িয়ে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করার প্রস্তাব করা হচ্ছে। তবে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় আশঙ্কা করছে, প্রকল্প দীর্ঘায়িত হলে ব্যয়ও বাড়বে—রেট শিডিউল পরিবর্তন ও মৌজা রেট বৃদ্ধিসহ নানা কারণে।

সভায় অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিবিড় মনিটরিং, ধাপে ধাপে (ফেইজ ভিত্তিক) বাস্তবায়ন, টিএসসিতে ছাত্রী হোস্টেল নির্মাণ পুনর্বিবেচনা, বিল্ডিং কোড অনুযায়ী গুণগত মান নিশ্চিতকরণ,  ক্রয়কৃত সরঞ্জামের মান যাচাই, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ, নথি সংরক্ষণ ও আর্থিক নিরীক্ষা সম্পন্ন করার সুপারিশ করা হয়।

সম্পর্কিত