দোকানে সাজানো একেকটা ৬০ গ্রাম ওজনের ব্রয়লার মুরগির ডিমের পাশে প্রায় ৩৮ গ্রাম ওজনের দেশি মুরগির ডিমকে অনেকটাই ছোট মনে হয়।
ডিম ভাজি করার আগে ফ্রিজ খুলে পাশাপাশি দুই ধরনের ডিম দেখলে যে কারও মনে আফসোস হতে পারে—আহা, দেশি মুরগির ডিমের আকার যদি আরও কিছুটা বড় হতো!
কেমন হবে যদি সত্যিই দেখা যায় দেশি মুরগিগুলো আগের চেয়ে বড় আকারের ডিম দিচ্ছে?
ভাবতে অদ্ভুত মনে হলেও দেশি মুরগি থেকে ৫-১০ শতাংশ বেশি ওজনের ডিম উৎপাদনের লক্ষ্যেই একটি প্রকল্পের প্রস্তাব করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।
১১১.৫০ কোটি টাকার এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশি মুরগির ডিম পাড়ার প্রবণতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিটি মোরগ ও মুরগির ওজন গড়ে ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম পর্যন্ত বাড়বে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো প্রকল্প প্রস্তাব নিয়ে আজ সোমবার প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা আয়োজন করতে যাচ্ছে পরিকল্পনা কমিশন। সভায় প্রকল্পটির মোট ব্যয়, খাতভিত্তিক বরাদ্দের প্রস্তাব এবং কয়েকটি খাত অন্তর্ভুক্তির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
তা ছাড়া দেশি মুরগির জাত উন্নয়ন প্রকল্পে বিদেশি প্রশিক্ষণের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলবে পরিকল্পনা কমিশন।
প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পেলে ২০৩০ সালের মধ্যে এর বাস্তবায়ন কাজ শেষ করবে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই)।
প্রকল্প বাস্তবায়নের এলাকা হিসেবে সাভারে বিএলআরআই-এর প্রধান কার্যালয়সহ দেশের আট বিভাগের ২১টি এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। দেশীয় পরিবেশের উপযোগী, উচ্চ ডিম ও মাংস উৎপাদনশীল এবং রোগ প্রতিরোধক্ষম দেশি মুরগির জাত উন্নয়নের লক্ষ্যে এ প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া খামারের কার্যকারিতা পরীক্ষণের মাধ্যমে প্রতি বছর দেশি মুরগির ডিম উৎপাদন ৫ থেকে ১০ শতাংশ এবং মাংস উৎপাদন ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম পর্যন্ত বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে লাভজনক দেশি মুরগি পালনে অন্তত পাঁচটি নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে খামারী পর্যায়ে অভিযোজন এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশীয় মুরগি পালন ব্যবস্থাপনা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন করা হবে।
প্রকল্পের পটভূমিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে পোলট্রি শিল্প প্রায় ৬০ লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে এবং নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নেও অবদান রাখছে। তবে বাণিজ্যিক মুরগি পালনে অগ্রগতি হলেও দেশি মুরগির ক্ষেত্রে তেমন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, যদিও এটি গ্রামীণ আয়ের উৎস ও পারিবারিক পুষ্টির গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক। বর্তমানে বিএলআরআই এক্সসিটু পদ্ধতিতে কয়েকটি দেশি জাত সংরক্ষণ করছে, যাদের ডিম ও মাংস উৎপাদনের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এদের খামারী পর্যায়ে প্রাপ্যতা বাড়ানো, ইনসিটু সংরক্ষণ এবং জাত উন্নয়ন অপরিহার্য।
“দেশি মুরগি গবেষণা, সংরক্ষণ ও উন্নয়ন জোরদারকরণ” প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশি মুরগির উৎপাদনশীলতা বাড়বে, খামারীদের আয় ও পুষ্টি নিশ্চিত হবে, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং গবেষণার মাধ্যমে নতুন জাত উদ্ভাবন সম্ভব হবে।
পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রকল্পটি পাঠানো হলে ব্যয় ৩০ কোটি টাকার মধ্যে সীমিত রাখার শর্তে সুপারিশ করা হয়েছিল। এর প্রায় চার গুণ বেশি ব্যয় ধরে ১১১.৫০ কোটি টাকায় প্রকল্প প্রস্তাবের যৌক্তিকতা জানতে চাইবে পিইসি সভা।
প্রকল্পে গবেষণাবহির্ভূত সম্প্রসারণমূলক অঙ্গ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কাজ; তাই গবেষণাধর্মী কার্যক্রম ছাড়া অন্য খাত বাদ দেওয়ার সুপারিশ আসতে পারে সভা থেকে।