মঙ্গলবার, মার্চ ১০, ২০২৬

শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিত করতে আইন শক্তিশালীকরণের তাগিদ

প্রজ্ঞার কর্মশালা

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে কিছু অগ্রগতি হলেও বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক মানদণ্ডে দেশ এখনও পিছিয়ে আছে। বর্তমানে দেশের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের হার যথাক্রমে ৫০ ও ৪৭ শতাংশ, যেখানে বৈশ্বিক গড় হার ৭৭ ও ৭৪ শতাংশ। ২

০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিত করার সরকারি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আইন শক্তিশালীকরণের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার রাজধানীর ফারস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টসে আয়োজিত “বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন: অগ্রগতি, প্রতিবন্ধকতা ও করণীয়” শীর্ষক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কর্মশালায় এ মত দেন বক্তারা।

প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)-এর সহযোগিতায় কর্মশালার আয়োজন করে। এতে প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন মিডিয়ার ২৬ জন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক অংশ নেন।

কর্মশালায় জানানো হয়, বিদ্যমান আইনে জন্ম ও মৃত্যুর তথ্য প্রদানের দায়িত্ব পরিবারকে দেওয়া হলেও স্বাস্থ্য বিভাগের ভূমিকা ঐচ্ছিক রাখা হয়েছে।

বক্তাদের মতে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আইনগতভাবে জন্ম নিবন্ধনের দায়িত্ব দিলে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় জন্ম নেওয়া দেশের প্রায় ৬৭ শতাংশ শিশু নিশ্চিতভাবে নিবন্ধিত হবে।

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশ এ ধরনের ব্যবস্থা চালু করে শতভাগ বা তার কাছাকাছি নিবন্ধন হার অর্জন করেছে।

বক্তারা বলেন, সচেতনতার অভাব, জনবল সংকট, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, জটিল প্রক্রিয়া ও স্বাস্থ্য খাতের সঙ্গে দুর্বল সমন্বয় নিবন্ধন ব্যবস্থার বড় বাধা। এসব অচলাবস্থা কাটাতে আইন সংশোধন ও কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন তারা।

জিএইচএআই বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, “২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের লক্ষ্য অর্জনে দ্রুত আইন সংশোধন করে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোকে এ দায়িত্ব দিতে হবে।”

বক্তারা উল্লেখ করেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা, বাজেট প্রণয়ন, জনস্বাস্থ্য ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আলোচক হিসেবে কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস-এর কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মো. নজরুল ইসলাম, অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স-আত্মার কনভেনর লিটন হায়দার, কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ এবং প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের।

মুক্ত আলোচনা সঞ্চালনা করেন চ্যানেল আই-এর চিফ নিউজ এডিটর মীর মাসরুর জামান। বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা দেন প্রজ্ঞার কর্মসূচি প্রধান হাসান শাহরিয়ার ও কোঅর্ডিনেটর মাশিয়াত আবেদিন।