মঙ্গলবার, মার্চ ১০, ২০২৬

আংশিক রফতানিকারকদের জন্য দ্রুতই আসছে বন্ড সুবিধা: বিডা চেয়ারম্যান

বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে বহুমুখীকরণের লক্ষ্য নিয়ে আংশিক রফতানিকারকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এর আওতায় তাদের বন্ড সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানিয়েছেন, বিনিয়োগকারীদের যৌক্তিক চাহিদার ভিত্তিতে এ প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে। “আমরা আংশিক রফতানিকারকদের জন্য বন্ড সুবিধাসহ কয়েকটি নীতি সহায়তার ওপর কাজ করছি। সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এটি কার্যকর হলে, আমদানিকৃত কাঁচামাল নির্ভর দেশীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতামূল্যে পণ্য রফতানির সুযোগ পাবে,” বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “এই সুবিধা কার্যকর হলে ছোট ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তারা বিশ্ববাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। এর ফলে তৈরি পোশাক নির্ভরতা কমবে এবং অন্যান্য খাত—যেমন ওষুধ, চামড়া, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষিজাত প্রক্রিয়াজাত পণ্য ও হালকা প্রকৌশল—আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে।”

আশিক চৌধুরী আশা প্রকাশ করেন, আংশিক রফতানিকারকদের এ প্রণোদনা রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকেও ত্বরান্বিত করবে। এর ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এফসিএমএ বলেন, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে যৌক্তিক সুবিধা প্রদানের পাশাপাশি বন্দর থেকে দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিত করা জরুরি। এজন্য এনবিআর স্ব-মূল্যায়ন ও পরবর্তী নিরীক্ষণ প্রক্রিয়ার ওপর জোর দিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে তাঁর সরাসরি হস্তক্ষেপ থাকবে, যাতে ব্যবসায়ীরা দ্রুত সেবা পান।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের মোট রফতানির প্রায় ৮৪ শতাংশ তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে। তবে এ খাতের ওপর অতিনির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি তৈরি করছে। বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ছে, নতুন ধরনের পণ্যের চাহিদাও তৈরি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আংশিক রফতানিকারকদের জন্য বন্ড সুবিধা কার্যকর হলে তৈরি পোশাকের বাইরে আরও বহু খাত বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাবে।

শিল্প উদ্যোক্তারা মনে করছেন, বন্ড সুবিধা চালু হলে তাদের উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে কৃষিজাত প্রক্রিয়াজাত পণ্য, ওষুধ ও হালকা প্রকৌশল খাত সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে বলে তাদের আশা।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, বৃহৎ শ্রমশক্তি এবং ক্রমোন্নত অবকাঠামো ইতোমধ্যেই বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করছে। নতুন এই প্রণোদনা যুক্ত হলে বিনিয়োগ প্রবাহ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে, আংশিক রফতানিকারকদের জন্য বন্ড সুবিধা কার্যকর হলে রফতানির বৈচিত্র্য নিশ্চিত হবে এবং বাংলাদেশ নতুন এক দিগন্তে প্রবেশ করবে বলে আশা বিশেষজ্ঞদের।