দেড় যুগ পর ভোট দিলেন জামায়াত আমির
দীর্ঘ দেড় যুগ পর ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ (বালক শাখা) কেন্দ্রে তিনি ভোট দেন। এর আগে সকাল ৮টা ২০ মিনিটে কেন্দ্রে প্রবেশ করে কলেজ ভবনের তৃতীয় তলার একটি বুথে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে ভোটদান সম্পন্ন করেন।
ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশবাসী দেড় যুগ কোনো ভোট দিতে পারেনি, তিনিও পারেননি। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি কারাগারে থাকায় ভোট দেওয়ার সুযোগ হয়নি। তিনটি নির্বাচন মিস করার পর এবার ভোট দিতে পেরে তিনি মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করেন এবং এই ভোটের মাধ্যমে দেশে নতুন অধ্যায়ের সূচনা কামনা করেন।
যুবসমাজের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমির বলেন, জীবনে প্রথমবার ভোট দিতে না পারা তরুণদের জন্যও এই নির্বাচন ছিল বহুল প্রতীক্ষিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভোট শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু, সন্ত্রাস ও দখলমুক্ত এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।
তিনি আরও বলেন, এই ভোটের মাধ্যমে এমন একটি সরকার গঠিত হোক, যা কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা দলের নয়; বরং ১৮ কোটি মানুষের সরকার হবে। এ ধরনের সরকার গঠনে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং সবার কাছে দোয়া চান।
নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা আছে কি না—এমন প্রশ্নে শফিকুর রহমান বলেন, তিনি কেবল একটি কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন; এখন অন্য কেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। ছোটখাটো বিষয় উপেক্ষা করা হলেও বড় কোনো অনিয়ম হলে তা মেনে নেওয়া হবে না, কারণ মানুষের ভোটাধিকার হারিয়ে যাক—এটি তারা কোনোভাবেই চান না।
নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে যে ফলাফল আসবে, তা তিনি ও অন্য সবাইকে মেনে নিতে হবে—এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।
দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই যেন শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন। সবাইকে ঘর থেকে বের হয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে রাষ্ট্র গঠনের গর্বিত অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ভোটের আগের দিন বিভিন্ন স্থানে টাকাসহ জামায়াত নেতাদের আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একই ঘটনা বিভিন্ন মাধ্যমে ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে। কেউ অপরাধ করলে তিনি তার বিরোধিতা করেন, কিন্তু অপরাধ না থাকলেও জোর করে অপরাধ বানানো আরও বড় অপরাধ বলে মন্তব্য করেন তিনি। মানুষের ভোটাধিকার রক্ষাই তাদের প্রধান লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করেন জামায়াত আমির।